বিজ্ঞান ভাবনা (১৯৪): যুদ্ধ – শুরু না শেষ
ছোট গল্প সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন - শেষ হইয়াও হইল না শেষ। সেই বিচারে আজকাল যুদ্ধও ছোট গল্প হয়ে গেছে। শেষ হই হই করেও কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। তা সে ইউক্রেনে হোক, প্যালেস্টাইনে হোক বা অন্য কোথাও। হবে কেন। আগে মানুষ অস্ত্র তৈরি করত যুদ্ধ করার জন্য, এখন তারা যুদ্ধ তৈরি করে অস্ত্র বিক্রি করার জন্য। যতদিন যুদ্ধ লাভজনক ব্যবসা হিসেবে টিকে থাকবে ততদিন সে বহাল তবিয়তেই থাকবে।
হ্যাঁ, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে অনেকেই আশা করেছিল যে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। তার পেছনে অবশ্য বিভিন্ন যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। যুদ্ধে যখন ইউক্রেন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে, কুরস্ক আক্রমণ করে দেন দরবারের তাদের আশা যখন ধুলিস্যাত হবার পথে তখন তারা চাইছে বিনা শর্তে যুদ্ধ বিরতি। কিন্তু রাশিয়া অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জানে সেটা আসলে নতুন করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবার এক পশ্চিমা চাল। পশ্চিমা নেতারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন মিনস্ক চুক্তি ছিল আসলে ইউক্রেনকে রাশিয়ায় বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রস্তুত করার কূটনৈতিক চাল। তাই রাশিয়া যে এ ধরণের যুদ্ধ বিরতিতে রাজী হবে না সেটা জানাই ছিল। আর ইউরোপ এটাকে শান্তির প্রতি রাশিয়ার অনীহা বলে প্রচার করতে চাইছে। তবে সেই চুক্তির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে রাশিয়া রাজী হয়েছে এনার্জি ও সিভিল সেক্টর আক্রমণ না করতে। আর চুক্তি ঘোষণার আগে যে সমস্ত ড্রোন ইউক্রেনের এনার্জি সেক্টর আক্রমণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল নিজেদের এন্টি ড্রোন মিসাইল দিয়ে সেসব ধ্বংস করেছে রাশিয়া। শান্তি চুক্তির প্রতি তারা যে সত্যি সত্যিই অঙ্গীকারবদ্ধ এটা তারই প্রমাণ। অন্য দিকে চুক্তির অন্য পক্ষ মানে ইউক্রেন এর পরেও একাধিক বার রাশিয়ায় এনার্জি সেক্টরে আক্রমণ করেছে, ধ্বংস করেছে রাশিয়ায় অবস্থিত কাজাখস্থান, আমেরিকা আর অন্য কয়েকটি পশ্চিমা দেশের গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র। এ ছাড়াও ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করেই যাচ্ছে, আক্রমণ করছে সিভিল এলাকায়। আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দিলেও ইউরোপ অনবরত যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালছে। আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ডকুমেন্টে দেখা গেছে এর আগে বিভিন্ন রুশ এলাকায় ইউক্রেন যে আক্রমণ চালায় – সেটা করেছিল মূলত আমেরিকা ও ব্রিটেন। তারাই সব কিছু ঠিক করত, এমন কি লক্ষ্যবস্তুও। ইউক্রেনের লোকেরা শুধু ট্রিগার চাপত। এটা অবশ্য এদের অজানা ছিল না। কারণ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যাধুনিক অস্ত্র চালানোর মত দক্ষ বিশেষজ্ঞ ইউক্রেনে ছিল না। তবে এখন আমেরিকার এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল যে যুদ্ধটা পশ্চিমা বিশ্বই লাগিয়েছে, তারাই এত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
অনেক আগে থেকেই রাশিয়ায় একটি কথা প্রচলিত আছে – ইউরোপ আমেরিকা দিন দিন সোভিয়েত ইউনিয়নের মত হয়ে যাচ্ছে। তার আগে অবশ্য বলা হত রাশিয়ায় পশ্চিমা বন্য পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করছে। আসলেই তাই। ১৯৯০ এর দশকে রাশিয়ায় যেভাবে পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করেছে সেটা দেখে মনে হত আমরা উনবিংশ শতকের আমেরিকায় বসবাস করছি। অন্তত আমেরিকার সিনেমার সাথে সেই সময়ের রাশিয়ার জীবনযাত্রা মেলালে এরকম একটি ছবিই ফুটে উঠত। কোথাও কোন আইন নেই, যার হাতে অস্ত্র আর অর্থ আছে সেই আইন, সেই আদালত – ঠিক ওয়েস্টার্ন মুভির মত। এখন যে রাশিয়ায় এসব নেই তা নয়, তবে সেটা নব্বুইয়ের দশকের তুলনায় নস্যি মাত্র আর যেসব দুর্ঘটনা ঘটে হয় তার বেশির ভাগ ঘটে আইনের ফাঁক গলিয়ে। এর মূল কারণ এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনও আইনে তেমন দক্ষ বা বিশ্বাসী নয়, তারা ন্যায় অন্যায়ে বিশ্বাস করে। তাই অবলীলায় কোন কাগজে সই করতে পারে। ফলে পরে সরকার চাইলেও অনেক সময় ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে পারে না। একই সাথে বিদায় নিয়েছে সোভিয়েত আমলের নির্দেশ মূলক ব্যবস্থা – মানে পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি যা বলবে সেটাই আইন সেই মনোভাব। কিন্তু এটা আমরা এখন দেখি ইউরোপ আমেরিকায়। বাইডেন আমলে ট্রাম্পকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে সেটা দেখে মনে হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা। অথবা ইদানীং কালে রুমেনিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, মালদোভা – এসব দেশে যেভাবে বিরোধী দলের নেতাদের প্রায় জোর করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হল বা হচ্ছে সেটা দেখে সোভিয়েত আমলের যেমন খুশি আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের কথা মনে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই সফল না হলেও এসব দেশে অনেকটা ওয়ান পার্টি সিস্টেম চালু করার প্রয়াস চলছে। ওয়ান পার্টি না হলেও ওয়ান ভার্সন অফ হিস্টোরি প্রায় চালু হয়ে গেছে। আর এসবই সোভিয়েত আমলে সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর অন্যতম, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটা। এ নিয়ে সেদিন সাশার সাথে কথা বলতে বলতে বললাম, জানিস আমরা যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশুনা করতে আসি তখন গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক দেশের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করত। ওদের কাছ থেকে সেসব দেশের জীবনযাত্রা, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি – ইত্যাদি সম্পর্কে কত কিছুই না জানতে পারতাম। কিন্তু সবাই প্রথমেই যা জানার চেষ্টা করত তা হল বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ। আমি তোমাকে ভালবাসি – বিভিন্ন ভাষায় সেটা জানার চেষ্টা যে আমরা করতাম না তা নয়, তবে গালিগালাজ ছিল চার্টের টপে। একই ভাবে সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী বিশ্ব একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারত, শেখার ছিল। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো যেমন পুঁজিবাদ থেকে উৎপাদনে সাফল্যের মন্ত্র শিখতে পারত, পুঁজিবাদ শিখতে পারত এদের সম্পদের সামাজিক বন্টন ব্যবস্থা। কিন্তু সেই গালিগালাজের মতই দুই সমাজ বিরোধী পক্ষ থেকে নিয়েছে তাদের সবচেয়ে খারাপটা – সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব শোষণের মন্ত্র, পুঁজিবাদী বিশ্ব নিজেদের মত সবার উপর চাপিয়ে দেবার অপকৌশল।
তাহলে কি যুদ্ধ অনিবার্য? বিগত কয়েক শ বছরের ইতিহাস বলে প্রায় প্রতি শতাব্দীতে ইউরোপ সম্মিলিত ভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। সেটা ১৬১২ সালে পোল্যান্ডের অধীনে হোক, ১৮১২ সালে নেপোলিয়নের বা ১৯৪১ সালে হিটলারের নেতৃত্বে হোক। এটা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে কারণেই এটা লাভ লোকসানের হিসাব নয়, এটা সভ্যতার দ্বন্দ্ব – যা মনে হয় কোন পক্ষের ধ্বংস ব্যতীত শেষ হবার নয়। আর এ কারণেই ইউরোপ রণ সাজে সজ্জিত হচ্ছে। যে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শর্ত অনুযায়ী সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে চলতে বাধ্য সেও আজ সে অবস্থান থেকে সরে আসতে চাইছে। সে আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত নয়। সমস্যা হল জার্মানি যখনই সামরিক ভাবে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তখনই ইউরোপে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। তার প্রথম শিকার হয়েছে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড। তাই এখন যদিও রাশিয়া ঠেকাও স্লোগানে জার্মানি অস্ত্র সজ্জিত হচ্ছে সেটা যে প্রথমে পোল্যান্ড বা অন্য কোন প্রতিবেশীকে আঘাত করবে না সেটা কে জানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হবার কারণে রাশিয়ার প্রতি জার্মানির ক্ষোভ থাকলেও সে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে পোল্যান্ড, ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের হাতে। তাছাড়া জার্মানির বর্তমান নেতৃত্বের বেশির ভাগ তৃতীয় রাইখের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সরাসরি অধস্তন। তাই একটা যুদ্ধ যে ঘনিয়ে আসছে ইউরোপের উপর সেটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। সেটা তারা চাইছে। এটা এখন শুধু পপুলিস্টিক রাজনীতি নয়, এটা পাখা গজানো পিপীলিকার আগুনে ঝাপ দেবার মত।
আমেরিকার ভূমিকা তাহলে কী হবে? মনে রাখা দরকার, এমন কি বাইডেনের আমেরিকাও রুশদের সাথে সরাসরি যুদ্ধে নামতে চায়নি। কারণ তারা জানে পারমাণবিক যুদ্ধে কারও মুক্তি নেই, তাই তারা সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছে যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে যদিও ইউক্রেন বা অন্য কোন দেশের হাত দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ করতে তারা মোটেও গররাজি নয়। কিন্তু ট্রাম্পের আমেরিকা? ট্রাম্প সত্যি সত্যি শান্তি চেয়েছেন, তবে নিজের শর্তে। রাশিয়া চায় নিজের শর্তে। আর এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপ চাইছে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প বলতে শুরু করেছেন পুতিন শর্ত দিচ্ছেন যুদ্ধ বিরতি চান না বলে। যারা রাশিয়ার তেল গ্যাস কিনবে তাদের উপর ৫০০% ট্যাক্স বসানোর হুমকি দিয়েছেন বলে শোনা যায়। যদিও রাশিয়ার উপর প্রায় ২০ হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তারপরেও সে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে গেছে। যদি তাকে সব দিক থেকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করা হয় রাশিয়া যে উত্তর দেবে না তার সেটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রশ্ন হল সেই উত্তর কতটুকু কঠিন হবে। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা রাশিয়াকে সীমিত স্কেলে হলেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে, কারণ একমাত্র তখনই পশ্চিমা বিশ্ব বিশ্বাস করবে যে রাশিয়ার সাথে রসিকতা বেরস হতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করবে আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের উপর। রাশিয়ায় অনেকের ধারণা আমেরিকায় এখন তাদের নিজস্ব পেরেস্ত্রোইকা চলছে। সেটা যে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতই ফাটাল হবে তার মানে নেই, তবে সেটা আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বেশ জোরেশোরেই ঝাঁকি দেবে। আজ ইউরোপে যে ট্রাম্প বিরোধিতা সেটা আশির দশকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর গরবাচেভ বিরোধিতার মত। কারণ এসব দেশে আমেরিকার অনুগত এক শাসক শ্রেণী গড়ে উঠেছে। কিন্তু খোদ আমেরিকান সরকারই যদি সেসবের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে ইউরোপের এলিট যাবে কোথায়? কথায় আছে “রাজা যত বলে পারিষদ দলে বলে তার শত গুন”। কারণ রাজা বলেন নিজের স্বার্থে, নিজের ভাবনা থেকে। পারিষদবর্গ সেটা গ্রহণ করে রাজার অনুগ্রহ পাবার আশায়। সে নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর মানুষ তো অভ্যাসের দাস। ফলে রাজার পক্ষে যত দ্রুত নিজেকে বদলানো সম্ভব, পারিষদবর্গের পক্ষে সেটা তত সোজা নয়। পারিষদ স্বাধীন ব্যক্তিত্ব নয়, তার একটাই কাজ - মালিকের মন রক্ষা করে চলা। সে তাই নতুন বাস্তবতাকে ভয় পায়। ভয় পায় ছিটকে পড়তে পারে বলে। তাই বর্তমানের ইউরোপ আর আমেরিকার যে দ্বন্দ্ব – সেটাও অবজেক্টিভ প্রক্রিয়া। ফলে পশ্চিমা বিশ্বের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যদি রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সরাসরি যুদ্ধের রূপ নেয় তাতে অবাক হবার কিছুই থাকবে না। ইতিমধ্যে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মিলন মেলায় রাশিয়াকে নতুন করে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুদ্ধের ট্রেন ধীরে ধীরে গতি লাভ করছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে বাঙ্কার ব্যবসা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পুঁজিবাদ পশ্চিমা বিশ্বের জনগণের কাছে যুদ্ধ ও মৃত্যু দুটোই বিক্রি করছে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। তাদের ধারণা বাঙ্কারে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর কাটিয়ে পারমাণবিক রেডিয়েশনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। নতুন পৃথিবীর নতুন সূর্য তাদের সাদরে বরণ করবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। যদি সত্যি সত্যি সর্বাত্মক পারমাণবিক যুদ্ধ লাগে রাশিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার কিছু লোক বেঁচে থাকলে থাকতেও পারে যদিও ইউরোপ ও আমেরিকায় সেই সম্ভাবনা খুবই কম। আর যারা বেঁচে থাকবে তারা সেই জীবনকে অভিশাপ দেবে বলেই মনে হয়। কারণ তখন প্রস্তর যুগ থেকে সব নতুন করে শুরু করতে হবে। আমি বরাবর বলে আসছি এই যুদ্ধের একটাই পরিণতি – রাশিয়ার জয়! প্রশ্ন হল সেই জয়ের মূল্য কী? সেই জয় আসবে সবাইকে বাঁচিয়ে রেখে নাকি সবাইকে ধ্বংস করে। তৃতীয় কোন পথ নেই। চয়েজ তাদের।
বিঃদ্রঃ লেখাটি ০৪ এপ্রিল ২০২৫ প্রগতির যাত্রীতে প্রকাশিত হয়েছে
https://www.progotirjatree.com/2025/04/04/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%aa-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7/
হ্যাঁ, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে অনেকেই আশা করেছিল যে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। তার পেছনে অবশ্য বিভিন্ন যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। যুদ্ধে যখন ইউক্রেন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে, কুরস্ক আক্রমণ করে দেন দরবারের তাদের আশা যখন ধুলিস্যাত হবার পথে তখন তারা চাইছে বিনা শর্তে যুদ্ধ বিরতি। কিন্তু রাশিয়া অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জানে সেটা আসলে নতুন করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবার এক পশ্চিমা চাল। পশ্চিমা নেতারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন মিনস্ক চুক্তি ছিল আসলে ইউক্রেনকে রাশিয়ায় বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রস্তুত করার কূটনৈতিক চাল। তাই রাশিয়া যে এ ধরণের যুদ্ধ বিরতিতে রাজী হবে না সেটা জানাই ছিল। আর ইউরোপ এটাকে শান্তির প্রতি রাশিয়ার অনীহা বলে প্রচার করতে চাইছে। তবে সেই চুক্তির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে রাশিয়া রাজী হয়েছে এনার্জি ও সিভিল সেক্টর আক্রমণ না করতে। আর চুক্তি ঘোষণার আগে যে সমস্ত ড্রোন ইউক্রেনের এনার্জি সেক্টর আক্রমণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল নিজেদের এন্টি ড্রোন মিসাইল দিয়ে সেসব ধ্বংস করেছে রাশিয়া। শান্তি চুক্তির প্রতি তারা যে সত্যি সত্যিই অঙ্গীকারবদ্ধ এটা তারই প্রমাণ। অন্য দিকে চুক্তির অন্য পক্ষ মানে ইউক্রেন এর পরেও একাধিক বার রাশিয়ায় এনার্জি সেক্টরে আক্রমণ করেছে, ধ্বংস করেছে রাশিয়ায় অবস্থিত কাজাখস্থান, আমেরিকা আর অন্য কয়েকটি পশ্চিমা দেশের গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র। এ ছাড়াও ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করেই যাচ্ছে, আক্রমণ করছে সিভিল এলাকায়। আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দিলেও ইউরোপ অনবরত যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালছে। আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ডকুমেন্টে দেখা গেছে এর আগে বিভিন্ন রুশ এলাকায় ইউক্রেন যে আক্রমণ চালায় – সেটা করেছিল মূলত আমেরিকা ও ব্রিটেন। তারাই সব কিছু ঠিক করত, এমন কি লক্ষ্যবস্তুও। ইউক্রেনের লোকেরা শুধু ট্রিগার চাপত। এটা অবশ্য এদের অজানা ছিল না। কারণ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যাধুনিক অস্ত্র চালানোর মত দক্ষ বিশেষজ্ঞ ইউক্রেনে ছিল না। তবে এখন আমেরিকার এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল যে যুদ্ধটা পশ্চিমা বিশ্বই লাগিয়েছে, তারাই এত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
অনেক আগে থেকেই রাশিয়ায় একটি কথা প্রচলিত আছে – ইউরোপ আমেরিকা দিন দিন সোভিয়েত ইউনিয়নের মত হয়ে যাচ্ছে। তার আগে অবশ্য বলা হত রাশিয়ায় পশ্চিমা বন্য পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করছে। আসলেই তাই। ১৯৯০ এর দশকে রাশিয়ায় যেভাবে পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করেছে সেটা দেখে মনে হত আমরা উনবিংশ শতকের আমেরিকায় বসবাস করছি। অন্তত আমেরিকার সিনেমার সাথে সেই সময়ের রাশিয়ার জীবনযাত্রা মেলালে এরকম একটি ছবিই ফুটে উঠত। কোথাও কোন আইন নেই, যার হাতে অস্ত্র আর অর্থ আছে সেই আইন, সেই আদালত – ঠিক ওয়েস্টার্ন মুভির মত। এখন যে রাশিয়ায় এসব নেই তা নয়, তবে সেটা নব্বুইয়ের দশকের তুলনায় নস্যি মাত্র আর যেসব দুর্ঘটনা ঘটে হয় তার বেশির ভাগ ঘটে আইনের ফাঁক গলিয়ে। এর মূল কারণ এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনও আইনে তেমন দক্ষ বা বিশ্বাসী নয়, তারা ন্যায় অন্যায়ে বিশ্বাস করে। তাই অবলীলায় কোন কাগজে সই করতে পারে। ফলে পরে সরকার চাইলেও অনেক সময় ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে পারে না। একই সাথে বিদায় নিয়েছে সোভিয়েত আমলের নির্দেশ মূলক ব্যবস্থা – মানে পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি যা বলবে সেটাই আইন সেই মনোভাব। কিন্তু এটা আমরা এখন দেখি ইউরোপ আমেরিকায়। বাইডেন আমলে ট্রাম্পকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে সেটা দেখে মনে হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা। অথবা ইদানীং কালে রুমেনিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, মালদোভা – এসব দেশে যেভাবে বিরোধী দলের নেতাদের প্রায় জোর করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হল বা হচ্ছে সেটা দেখে সোভিয়েত আমলের যেমন খুশি আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের কথা মনে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই সফল না হলেও এসব দেশে অনেকটা ওয়ান পার্টি সিস্টেম চালু করার প্রয়াস চলছে। ওয়ান পার্টি না হলেও ওয়ান ভার্সন অফ হিস্টোরি প্রায় চালু হয়ে গেছে। আর এসবই সোভিয়েত আমলে সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর অন্যতম, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটা। এ নিয়ে সেদিন সাশার সাথে কথা বলতে বলতে বললাম, জানিস আমরা যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশুনা করতে আসি তখন গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক দেশের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করত। ওদের কাছ থেকে সেসব দেশের জীবনযাত্রা, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি – ইত্যাদি সম্পর্কে কত কিছুই না জানতে পারতাম। কিন্তু সবাই প্রথমেই যা জানার চেষ্টা করত তা হল বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ। আমি তোমাকে ভালবাসি – বিভিন্ন ভাষায় সেটা জানার চেষ্টা যে আমরা করতাম না তা নয়, তবে গালিগালাজ ছিল চার্টের টপে। একই ভাবে সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী বিশ্ব একে অন্যের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারত, শেখার ছিল। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো যেমন পুঁজিবাদ থেকে উৎপাদনে সাফল্যের মন্ত্র শিখতে পারত, পুঁজিবাদ শিখতে পারত এদের সম্পদের সামাজিক বন্টন ব্যবস্থা। কিন্তু সেই গালিগালাজের মতই দুই সমাজ বিরোধী পক্ষ থেকে নিয়েছে তাদের সবচেয়ে খারাপটা – সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব শোষণের মন্ত্র, পুঁজিবাদী বিশ্ব নিজেদের মত সবার উপর চাপিয়ে দেবার অপকৌশল।
তাহলে কি যুদ্ধ অনিবার্য? বিগত কয়েক শ বছরের ইতিহাস বলে প্রায় প্রতি শতাব্দীতে ইউরোপ সম্মিলিত ভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। সেটা ১৬১২ সালে পোল্যান্ডের অধীনে হোক, ১৮১২ সালে নেপোলিয়নের বা ১৯৪১ সালে হিটলারের নেতৃত্বে হোক। এটা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে কারণেই এটা লাভ লোকসানের হিসাব নয়, এটা সভ্যতার দ্বন্দ্ব – যা মনে হয় কোন পক্ষের ধ্বংস ব্যতীত শেষ হবার নয়। আর এ কারণেই ইউরোপ রণ সাজে সজ্জিত হচ্ছে। যে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শর্ত অনুযায়ী সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে চলতে বাধ্য সেও আজ সে অবস্থান থেকে সরে আসতে চাইছে। সে আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত নয়। সমস্যা হল জার্মানি যখনই সামরিক ভাবে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তখনই ইউরোপে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। তার প্রথম শিকার হয়েছে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড। তাই এখন যদিও রাশিয়া ঠেকাও স্লোগানে জার্মানি অস্ত্র সজ্জিত হচ্ছে সেটা যে প্রথমে পোল্যান্ড বা অন্য কোন প্রতিবেশীকে আঘাত করবে না সেটা কে জানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হবার কারণে রাশিয়ার প্রতি জার্মানির ক্ষোভ থাকলেও সে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে পোল্যান্ড, ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের হাতে। তাছাড়া জার্মানির বর্তমান নেতৃত্বের বেশির ভাগ তৃতীয় রাইখের উচ্চপদস্থ অফিসারদের সরাসরি অধস্তন। তাই একটা যুদ্ধ যে ঘনিয়ে আসছে ইউরোপের উপর সেটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। সেটা তারা চাইছে। এটা এখন শুধু পপুলিস্টিক রাজনীতি নয়, এটা পাখা গজানো পিপীলিকার আগুনে ঝাপ দেবার মত।
আমেরিকার ভূমিকা তাহলে কী হবে? মনে রাখা দরকার, এমন কি বাইডেনের আমেরিকাও রুশদের সাথে সরাসরি যুদ্ধে নামতে চায়নি। কারণ তারা জানে পারমাণবিক যুদ্ধে কারও মুক্তি নেই, তাই তারা সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছে যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে যদিও ইউক্রেন বা অন্য কোন দেশের হাত দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ করতে তারা মোটেও গররাজি নয়। কিন্তু ট্রাম্পের আমেরিকা? ট্রাম্প সত্যি সত্যি শান্তি চেয়েছেন, তবে নিজের শর্তে। রাশিয়া চায় নিজের শর্তে। আর এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপ চাইছে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প বলতে শুরু করেছেন পুতিন শর্ত দিচ্ছেন যুদ্ধ বিরতি চান না বলে। যারা রাশিয়ার তেল গ্যাস কিনবে তাদের উপর ৫০০% ট্যাক্স বসানোর হুমকি দিয়েছেন বলে শোনা যায়। যদিও রাশিয়ার উপর প্রায় ২০ হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তারপরেও সে ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে গেছে। যদি তাকে সব দিক থেকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করা হয় রাশিয়া যে উত্তর দেবে না তার সেটা ভাবার কোন কারণ নেই। প্রশ্ন হল সেই উত্তর কতটুকু কঠিন হবে। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা রাশিয়াকে সীমিত স্কেলে হলেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে, কারণ একমাত্র তখনই পশ্চিমা বিশ্ব বিশ্বাস করবে যে রাশিয়ার সাথে রসিকতা বেরস হতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করবে আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের উপর। রাশিয়ায় অনেকের ধারণা আমেরিকায় এখন তাদের নিজস্ব পেরেস্ত্রোইকা চলছে। সেটা যে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতই ফাটাল হবে তার মানে নেই, তবে সেটা আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বেশ জোরেশোরেই ঝাঁকি দেবে। আজ ইউরোপে যে ট্রাম্প বিরোধিতা সেটা আশির দশকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর গরবাচেভ বিরোধিতার মত। কারণ এসব দেশে আমেরিকার অনুগত এক শাসক শ্রেণী গড়ে উঠেছে। কিন্তু খোদ আমেরিকান সরকারই যদি সেসবের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে ইউরোপের এলিট যাবে কোথায়? কথায় আছে “রাজা যত বলে পারিষদ দলে বলে তার শত গুন”। কারণ রাজা বলেন নিজের স্বার্থে, নিজের ভাবনা থেকে। পারিষদবর্গ সেটা গ্রহণ করে রাজার অনুগ্রহ পাবার আশায়। সে নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর মানুষ তো অভ্যাসের দাস। ফলে রাজার পক্ষে যত দ্রুত নিজেকে বদলানো সম্ভব, পারিষদবর্গের পক্ষে সেটা তত সোজা নয়। পারিষদ স্বাধীন ব্যক্তিত্ব নয়, তার একটাই কাজ - মালিকের মন রক্ষা করে চলা। সে তাই নতুন বাস্তবতাকে ভয় পায়। ভয় পায় ছিটকে পড়তে পারে বলে। তাই বর্তমানের ইউরোপ আর আমেরিকার যে দ্বন্দ্ব – সেটাও অবজেক্টিভ প্রক্রিয়া। ফলে পশ্চিমা বিশ্বের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যদি রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সরাসরি যুদ্ধের রূপ নেয় তাতে অবাক হবার কিছুই থাকবে না। ইতিমধ্যে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মিলন মেলায় রাশিয়াকে নতুন করে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুদ্ধের ট্রেন ধীরে ধীরে গতি লাভ করছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে বাঙ্কার ব্যবসা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পুঁজিবাদ পশ্চিমা বিশ্বের জনগণের কাছে যুদ্ধ ও মৃত্যু দুটোই বিক্রি করছে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। তাদের ধারণা বাঙ্কারে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর কাটিয়ে পারমাণবিক রেডিয়েশনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। নতুন পৃথিবীর নতুন সূর্য তাদের সাদরে বরণ করবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। যদি সত্যি সত্যি সর্বাত্মক পারমাণবিক যুদ্ধ লাগে রাশিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার কিছু লোক বেঁচে থাকলে থাকতেও পারে যদিও ইউরোপ ও আমেরিকায় সেই সম্ভাবনা খুবই কম। আর যারা বেঁচে থাকবে তারা সেই জীবনকে অভিশাপ দেবে বলেই মনে হয়। কারণ তখন প্রস্তর যুগ থেকে সব নতুন করে শুরু করতে হবে। আমি বরাবর বলে আসছি এই যুদ্ধের একটাই পরিণতি – রাশিয়ার জয়! প্রশ্ন হল সেই জয়ের মূল্য কী? সেই জয় আসবে সবাইকে বাঁচিয়ে রেখে নাকি সবাইকে ধ্বংস করে। তৃতীয় কোন পথ নেই। চয়েজ তাদের।
বিঃদ্রঃ লেখাটি ০৪ এপ্রিল ২০২৫ প্রগতির যাত্রীতে প্রকাশিত হয়েছে
https://www.progotirjatree.com/2025/04/04/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%aa-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7/



Comments
Post a Comment